পড়ন্ত সলিলের হতাশা

ঘুরে ঘুরে আবার ফিরে সেই থমকে দাড়ানো ছোট্ট ঘরটার পুরোনো নিঃস্বঙ্গতায়। মনবাক্যে ষড়কালকে বুঝানো, শ্রাবণের সুখ যেন শুধু বিবর্ণ বেদনা...

পড়ন্ত সলিলের হতাশা










ঘুরে ঘুরে আবার ফিরে
সেই থমকে দাড়ানো
ছোট্ট ঘরটার পুরোনো নিঃস্বঙ্গতায়।
মনবাক্যে ষড়কালকে বুঝানো,
শ্রাবণের সুখ যেন শুধু
বিবর্ণ বেদনায়।

আজ বাইরে জীবনের
রিমঝিম কোলাহল;
অবিরাম ধারায়।
এ্যকে এ্যকে দুঃখ জমে;
চোখের কোণে বান ভাসে;
পাষাণের বুক ভরায়।

খোঁজ নেই আজ
ভালবাসার উষ্ণ প্রভাতের
রক্তিম সবিতার।
এসেছে বুঝি পালা,
আকাশের শূন্য বুক থেকে
বিদায় নেবার।

সমাধির ঘন্টা শুনে;
নিশ্চিত জয় হারিয়ে
করুণ পরাজয়ের।
অরুণ যে গেলো ফেলে
সেই না ফেরার কালে,
তাই হাহাকার আষাঢ়ের।

সব কিছু হারিয়ে
যতন করে ভাবনা গড়া
অলীক সর্বসুখের।
শুধু কি দৈন্য দশায়
পীড়িতদেরই অধিকার
অমোঘ সর্বদুখের?

দিনান্তের বিচিত্রতা,
তার সাথে হাজারো
অশান্ত মননের।
অকুল ভাবনার দরিয়ায়
মহাকাল ইন্ধন যোগায়
চির ভাঙনের।

পাতাশূন্য ডাল দুঃখ ঘুচিয়ে
মুক্ত নীলের গানের দলের
কিচিরমিচির সুর মাখে।
শান্ত নদী; পাষাণ পাহাড়
মেঘ বরণে বৃষ্টি মায়ায়
আকাশপাণে দৃষ্টি রাখে।

অশরীরীদের ঐকতানে
দীঘল অমানিশায় বাড়ে
হৃদয়ের আর্তনাদ!
সাথে টিপটিপ শোরগোলের
বুনো ছন্দে ভেসে যায়
ঝিঁঝিঁ ডাকা অবসাদ!

আজ কংক্রিটের ভাষায়
শত শত বিশাল দানো
বিদ্রূপ করে নীরবে।
পড়ন্ত সলিল মন
শত বিন্দুতে মিলায়
জীবনের কলরবে।

সুখের জয়ধ্বনি আজও
রাখেনি তার সেই
শপথের কথা।
দুঃখটা শেষ হলে
তবেই ফিরবে জীবনে
ছিলো মনে গাঁথা।

তবে এইটুকু অভাব
বোঝার স্বভাবে
কতটুকুই বা হয় শূন্যতা!
সবকিছু পেয়েও যেন
যায় না হৃদয়ের
গভীর রিক্ততা।

এই তো সূর্যদিনের
আলোর সামীয়ানা মেঘলা দিনে
হলো হাতছাড়া।
গরীব রাজা হয়ে
বিজন দ্বীপে ঘুরে ফিরছে
এক ছন্নছাড়া।

তবুও সেখানেই হন্যে হয়ে
জীবন চায় জীবনের স্বাদ,
এমনি অভিলাষ।
সৈকত আর বন উজাড় করে
দু’চোখ ভরে যতনে গড়ে
প্রিয় স্বপ্নপ্রবাস।

এদিকে গোধূলির নিরবতা
ভোরের স্তব্ধতা আর
নীল আকাশের ভূবন।
সবি পেরিয়ে যায় নির্লিপ্তে,
ভ্রমণের সঙ্গীত ঘিরে
নির্বিকার জীবন।

ঐ নির্ঘুম চন্দ্রিমা
উপমার বিনিময়ে কেবলি
দিয়ে গেছে কালিমা।
আর তারার আলোয় হাতড়িয়ে পাওয়া
বালুকাবেলার বৈকুন্ঠ জুড়ে শুধু
অনর্থ করেছে জমা।

জানলার কার্নিসে এখন
নীড় বাধা নৃত্যের
বিচ্ছিন্ন স্পন্দন।
তন্দ্রাতুর রাত দুপুরে
শঙ্খকল্পের দিনযাপনের
অতৃপ্ত মন্দন।

ব্যর্থ আশায় আবারো শুরু
অসহায় এক পশলা
বৃষ্টির আরাধ্য।
শহরতলীর গদ্য ভিজিয়ে
দেয়ালের বুকে সাজিয়ে দেয়
জলের শ্রাদ্ধ।

রয়ে যায় অবশেষ,
বিষণ্নতার মুহুর্তটুকু
চেনা পথ মাড়ায়।
আসন্ন শ্রাবণ সেই
বেদনার সুখে ভিজতে
নতুন করে ভাবায়।



-রচনাকালঃ মে, ২০০৫

0 মন্তব্য: