নিত্য হিসেবের ভৃত্য বনে আপন আপন খেলা। কি যতনে হায় সব ছেড়ে যায় একলা যাবার বেলা। ঘুড়ি-সুতোর বিত্ত-বিভব মরচে হাসির কড়ি। যাজক সেজে ব...

অবিসংবাদিত সমাপনী










নিত্য হিসেবের ভৃত্য বনে
আপন আপন খেলা।
কি যতনে হায় সব ছেড়ে যায়
একলা যাবার বেলা।

ঘুড়ি-সুতোর বিত্ত-বিভব
মরচে হাসির কড়ি।
যাজক সেজে বেজেই চলে
অন্তঃপুরের ঘড়ি।

চোখের পানির বদৌলতে
হারানোর ব্যাথা ভোলা।
খুচরো স্মৃতির তল্পি গুটিয়ে
নতুন বিপণী খোলা।

কবে ভিজবে মাছরাঙাটা
শিমুল ফুটবে কবে?
ঘুম কাটিয়ে একটু দেখার
কখনো কি সাধ হবে?

দুধ-সাদা রঙ ছাতের নিচে
রৌদ্র পাড়ের বিছানা,
আকাশ রঙা শান্তিকুটির
বদলাবে রোজ ঠিকানা।

বেলা হবার তাড়া দিয়ে
ঘুম না ভাঙাবে কেউ।
অথৈ রাতে শরীর জুরে
বয়ে যাবে নীল ঢেউ।

-রচনাকালঃ মে, ২০০০

এই জীবন ধারা, শত নয়ন কাঁড়া; ভিজে চলেছে মায়াবন। ঐ বিহঙ্গের ডানা, ভুলেছে সব মানা; ছোট্ট নাম তার হীরামন। মেঘকন্যার আকাশচারী, বাতাস ...

আষাঢ়ে মায়াবন










এই জীবন ধারা, শত নয়ন কাঁড়া;
ভিজে চলেছে মায়াবন।
ঐ বিহঙ্গের ডানা, ভুলেছে সব মানা;
ছোট্ট নাম তার হীরামন।

মেঘকন্যার আকাশচারী, বাতাস করেছে ভারী;
ভুলে গিয়ে সব পিছুটান।
সহিষ্ণু আজ কন্ঠ ছেড়ে, কাদাজলের গানটি ধরে;
করে যায় ভেজার আহবান।

মধু পূর্ণিমার কোলে, মাথা রেখে ভুলে;
স্বপ্ন দেখে নির্ঝরেরা।
মায়াবী রাত্রি, বিষাদের যাত্রি;
তন্দ্রা সেচে কল্পনারা।

কৃষ্ণচূড়ার চোখে, উষ্ণ আবীর মেখে;
হারিয়ে যায় অঝর ধারা।
সেই খোঁজের আলাপনে, রঙধনু মায়াবনে;
তাড়া করে মেঘের পাড়া।


-রচনাকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬

প্রতিটি দিবস প্রতিটি জীবন; অধীর মহাকালের প্রতিটি বাজী, সূচনালগ্নে একটি প্রত্যূষ। তখনো মুখ ধোয়নি এঁটো ধরণী, রাতের ঝরে পড়া শুকনো প...

ঊষার ঐশ্বর্য










প্রতিটি দিবস প্রতিটি জীবন;
অধীর মহাকালের প্রতিটি বাজী,
সূচনালগ্নে একটি প্রত্যূষ।
তখনো মুখ ধোয়নি এঁটো ধরণী,
রাতের ঝরে পড়া শুকনো পাতা
রাজপথ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য
বিস্তার করতে চায়, তবে
রেষারেষি বেধে যায় চির নবীন বাতাসের সাথে।
জীর্ণ বসনে নারী-পুরুষ নেমে পড়ে
ধুয়ে মুছে সবকিছু নতুন করতে।
ফুল টোকাতে টোকাতে কাঁধে পরিত্যক্ত ঝোলা নিয়ে
নশ্বর বাগিচায় প্রবেশ করে কিশোর-কিশোরীর দল।

জীবিকার নিশান উড়ে
নিভু নিভু প্রায় হলুদ আলোটার নিচে।
অবুঝ প্রাণীগুলো জাগে আড়মোড়া ভেঙে
তাদের রোজকার খাবার খুঁজতে।
মুক্ত নীলাম্বরের সখীরা তা দেখে অবলীলায়
উপহাসে ফেটে পড়ে, যেখানে
সেই সুবহে-সাদেকের অনেক আগেই তারা
নেমে পড়েছে তাদের ছোট্ট বাসাটি ছেড়ে!
সবুজ মহীরূহ ঝাড়ু দিয়ে যখন
প্রকৃতি পরিষ্কার করে দিয়ে যায়,
অর্ধ কুসুম সূর্যটার সম্মুখে তখন
সারা প্রভাতের স্পন্দন ভাসে।

হাতে ফুলের মালা নিয়ে
আরেক ফুল ফোটে এমনি ভোরের মেলায়,
ঠিক তখনি শহরের সবচেয়ে উচু দালানটার
সবচেয়ে উচু ঘরটায়;
নিদ্রিত ফুল ফুটে থাকে
ফুলদানীতে সুবাস নিয়ে।
ঐ দালানগুলোয় কোন সাড়া নেই,
জেগেছে কেবল জীবনের একটি ভাগ,
দিবালোকের দ্বিতীয় প্রহর
এদের তন্দ্রা ভাঙার দিন।
ধীরে আসে আগুন দুপুর,
মাত্রা মেলায় স্নিগ্ধ বিকেল;
নীলিমায় শেষ হয় মেলা;
সময় আসে ঘরে ফেরার।
চেনা সেই তারা ভরা মৌনতা
জমজমাট জ্যোৎস্নার হাটে
মুখরিত চাঁদের রাত।

অন্তরে ভগ্ন কোলাহল;
ঝিমিয়ে পড়ে ব্যস্ততা,
আবারো সেই প্রতীক্ষা ঐশ্বর্যমন্ডিত ঊষার।
সেই আলোকিত আকাশ,
মুক্ত বাতাসে উড়ে চলা সেই ধুলোর মেঘ,
ঝাড়ু হাতে ছিন্ন বসনে সেই বৃদ্ধা,
শুষ্ক সবুজ গালিচায় ফুল তোলা সেই
কিশোর-কিশোরী।
ফুটপাতের ছোট্ট রাজপ্রাসাদে
ফুটফুটে নবজাতকের বিক্ষিপ্ত কান্নার মাঝে
খুঁজে পাওয়া প্রতিদিন একটি নতুন ভোর।



-রচনাকালঃ ২৪ জুন, ২০০৮

অপলক বালুকাবেলায় এক সাগর তৃষ্ণায় অনুরণনে মুখর মেঘাচলের অন্তরায় শ্রান্ত গভীর দৃষ্টি। বিমোহিত অনীলের অনন্য নৈপূণ্যে জীবন বিলাসের স...

বৃষ্টি নন্দন










অপলক বালুকাবেলায়
এক সাগর তৃষ্ণায় অনুরণনে মুখর
মেঘাচলের অন্তরায় শ্রান্ত গভীর দৃষ্টি।
বিমোহিত অনীলের অনন্য নৈপূণ্যে
জীবন বিলাসের সুরেলা উচ্ছ্বাসে চির নন্দিত বৃষ্টি।
শাখীর ইন্দ্রজালে সাথী প্রিয় চঞ্চলা ধূসর নভঃ ভুবনে
সূর্যালোক বিহনে বাদলে দেয় স্বীকৃতি।
কাঠিন্যের উৎপীড়নে সহিষ্ণুতার নিষ্পেষনে
অন্ধ জগতের ঈপ্সা সেঁচে শ্যাম বন্ধন ভেঙে
মৃত্তিকা পায় নিষ্কৃতি। 

ভালবাসার ভুলে ক্ষীণ শেষ পারাবার তটে 
টিপ টিপ ঝিমুনী, তবুও বুক পেতে
শঙ্খ আগলে রাখে।
কুয়াশা কুলের ভ্রান্তি জড়ায় বিহঙ্গের ডানায়
আড়ালে সেদিকে তাকিয়ে ঔদাসিন্য প্লাবিত নয়নে
বৃষ্টি ভেবে অশ্রু মাখে।
ভবঘুরে ঐ মেঘকে বাঁধনে জড়াতে নয়,
ধরাবাধা কোন নিয়মে বৃষ্টি পিয়াসী নয়;
শুধু আজন্ম নিবেদন-
হৃদয়ের মৃদু সাড়াতে ষড়কাল জুড়ে হয়
যেন স্বাধীন মিলন।
স্মৃতির মিনতিতে তবে মুখোরিত রবে
মেঘ নিকেতন।

-রচনাকালঃ ১১ জুন, ২০০৮

তখনো রৌদ্র দৃষ্টি কাঁড়েনি মৌন নদীর বাঁকে, শূন্যতা জুড়ে ইচ্ছে জড়ালো দ্বীপ্ত মেঘের ফাঁকে। ভেঙে গেলো ছাতের চূড়ায় কাকের উন্মত্ত সভা,...

বৃষ্টি নিরন্তর










তখনো রৌদ্র দৃষ্টি কাঁড়েনি মৌন নদীর বাঁকে,
শূন্যতা জুড়ে ইচ্ছে জড়ালো দ্বীপ্ত মেঘের ফাঁকে।
ভেঙে গেলো ছাতের চূড়ায় কাকের উন্মত্ত সভা,
গগণকোণে ঊঁকি দিলো কিশোরী ক্ষণপ্রভা।
মৃত্তিকার নির্জলা স্বাধীনতায় কিশলয়ে বাঁজে জয়ধ্বনি,
পথভ্রষ্ট মাতাল সমীরণ ভরে আর্দ্র সুবাসের পত্তনি।
এক সময় ক্লান্ত অধর ছুঁয়ে যায় এক ফোটা অধীর সলিল,
বিস্বাদ দুপুরে নীলের ছায়া মাড়ায় উদ্ধত ধূসর মিছিল।
বিকেল হৃদয় ভিজে চলে নিবিড় ভালবাসায়,
গোধূলী বৃষ্টি একাকার সন্ধ্যার নিঃসীম মায়ায়।
নিশিতে পাওয়া নিয়ন বাতির নিশ্চুপ আঁকা আল্পনা,
চোখের তারায় নক্ষত্র পেয়ে জীবন্ত হয় কল্পনা।
জ্যোৎস্নার মৃদু শিহরণ ভাষাতে; পড়ন্ত রাত্রির সব হারাতে,
বুক ভরে তার যতটুকু প্রেম; শুধু বৃষ্টিকে কাছে চাওয়াতে।
কিন্তু মুখোমুখি নিঃশব্দে জ্যোৎস্না-বৃষ্টির বিচরণ,
নিরব কথোপোকথোনে শুধু প্রণয়ের আলোড়ন।
কৃষ্ণপক্ষে এক সময় টলমল চোখে ফিরে যায় চন্দ্র নির্ঝর,
আর সে পথের দিকে তাকিয়ে ঝরে যেতে থাকে বৃষ্টি নিরন্তর।



-রচনাকালঃ ২৯ মে, ২০০৮

নিঃস্বঙ্গতা ঢেকেছে ক্লান্তির চাদর, কষ্টের বাঁধ ভেঙেছে অশ্রু সাগর। সাক্ষী ঐ রাতের তারা আর অমাবস্যার ঘোর, বুঝেছে শুধু নিশাচরদের ঘ...

হৃদয়ঙ্গম










নিঃস্বঙ্গতা ঢেকেছে ক্লান্তির চাদর,
কষ্টের বাঁধ ভেঙেছে অশ্রু সাগর।
সাক্ষী ঐ রাতের তারা আর
অমাবস্যার ঘোর,
বুঝেছে শুধু নিশাচরদের
ঘুমন্ত শহর.........................।

এ জীবন তবু থাকে না থেমে,
হারিয়ে যায় সে সময়ের ফ্রেমে;
পিছুটান ছুড়ে ফেলে দিয়ে দুরে;
ছুটে চলে তরী ছন্দময় সুরে।
হৃদয়ের চাওয়ায় সর্বনাশী হয়ে,
চলে যায় সব কিছু ভেঙে দিয়ে;
অতৃপ্ত প্রহর……………….।

প্রণয়ের ভীড়ে ব্যথিত মুখ,
ফেরারী হয়ে খুঁজে ফেরে সুখ;
পথহারা হয়ে বিস্মৃতির কোলে,
আঁখি বাতায়নে কল্পনা দোলে।
ঊষার পূর্বাশায় শিশিরে ভেজায়;
ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্ন দেখায়;
পড়ন্ত নির্ঝর………………।



-রচনাকালঃ নভেম্বর, ২০০৫