আজ দ্বীপ্ত মনের তৃপ্ত সাধে হারিয়ে যাবার পালা, দিগন্ত জুড়ে দৃষ্টি মুকুরে কুসুম রোদের মালা। পাখীদের লেখনে দূরদেশ ভ্রমণে আনমনে আঁকা ছবি, ম...

কোন এক প্রাপ্তির অবকাশে

আজ দ্বীপ্ত মনের তৃপ্ত সাধে হারিয়ে যাবার পালা,
দিগন্ত জুড়ে দৃষ্টি মুকুরে কুসুম রোদের মালা।
পাখীদের লেখনে দূরদেশ ভ্রমণে আনমনে আঁকা ছবি,
মেঘেদের মননে নিসর্গ গড়নে স্বপ্নীল বনে সবি।

নিরাশার ফীকে ফ্রেমে সহজ প্রাণের হাসি,
দিনরাত্রি বাঁজিয়ে যায় দিব্য সুখের বাঁশী।
আজ ভুলে যাবার সানকি ভরে ফিরে তাকাবার তাড়া,
স্মৃতির ময়ুর সুদিন যাপনে উল্লাসে পাগলপারা।

তাই কল্পলোকের চকমকিতে দিনবদলের সাঁজ,
চাওয়ার প্রতীক্ষা মাড়িয়ে রোজ প্রাপ্তির কারুকাজ।

কল্পদিনের উদাস হাওয়া। তেপান্তরে ধূসর ছাওয়া। গরাদ গলে স্বপ্নঝুড়ি। ভিজে চুপচুপ ফুলের কুঁড়ি। মেঘের পালকি চুপটি করে, দিক ভোলাদের নাম...

বৃষ্টি ভনিতা


কল্পদিনের উদাস হাওয়া।
তেপান্তরে ধূসর ছাওয়া।
গরাদ গলে স্বপ্নঝুড়ি।
ভিজে চুপচুপ ফুলের কুঁড়ি।

মেঘের পালকি চুপটি করে,
দিক ভোলাদের নামটি ধরে;
সাঁজালো দুপুর হুহুম্নাতে,
আহ্লাদী বধূর অপেক্ষাতে।

নীপবনের নৃত্যশালায়,
মন মন্দিরা তন্দ্রা বিলায়।
পান্থ ঘুঙুর পূরবী রাগে,
ঘুমিয়ে পড়ে বৃষ্টির আগে।

আয়নায় চেয়ে শ্রাবণ মেয়ে,
বৃষ্টি লুকায় লজ্জা পেয়ে।
তাই জলকেলিতে আলতা পায়ে,
গোধূলী ভাসায় ঝিলের গায়ে।

ঝাপসা কাঁচে স্বচ্ছ সুখে;
বৃষ্টিরঙের হাসিমুখে,
আঙুল তুলিতে রাতের ক্লান্তি,
চোখের আরশিতে ঘোর সংক্রান্তি।

ক্লান্ত নয়নে রাত জেগে, গুচ্ছ ভাবনার কালো মেঘে; ঘুম আসে না আর কিছুতেই। টিক টিক আওয়াজে, স্থানান্তরের ঘন্টা বাজে; অন্ধ রাত ভোর হয় নিরবেই। ...

অনুতাপ পোহানো রাত
ক্লান্ত নয়নে রাত জেগে,
গুচ্ছ ভাবনার কালো মেঘে;
ঘুম আসে না আর কিছুতেই।
টিক টিক আওয়াজে,
স্থানান্তরের ঘন্টা বাজে;
অন্ধ রাত ভোর হয় নিরবেই।
মন বুঝি কথা বলে,
স্মৃতির আলো জ্বেলে;
সুখ যাযাবর সাজে,
নীলান্তে ঢাক বাজে;
হৃদয় দোরে দুঃখ ভীড়ে অচিরেই।

ঠিক-বেঠিকের উষ্ণতাতে,
বরফ গলে দিনে-রাতে;
বোঝাবুঝির দুই মেরুতে।
ভুল সময়ে ভুলের সাড়ায়,
নির্ঘুম দিন বছরে গড়ায়;
নীল কাঁচের দেয়াল পেরুতে।
একবার যদি আসতো ফিরে;
টুকরো স্মৃতি হৃদয় নীড়ে,
পান্থ হাওয়ায় চেনা ধূলো;
শুধরে দিতো ভ্রান্তিগুলো,
স্বপ্নীল এক ভোরের শুরুতে।


রচনাকালঃ ২০০৪

জানলা পাড়ের বিকেল ঘুড়ি দিন গুটানোর তালে, গাল ফুলিয়ে দিচ্ছে হাওয়া দস্যি মেঘের পালে। পাখীর ঠোটে আনমনা রোদ মিছে শায়েরী খুঁজে, হটাৎ করেই ঘ...

দিন বরণে রাতের জড়তা
জানলা পাড়ের বিকেল ঘুড়ি দিন গুটানোর তালে,
গাল ফুলিয়ে দিচ্ছে হাওয়া দস্যি মেঘের পালে।
পাখীর ঠোটে আনমনা রোদ মিছে শায়েরী খুঁজে,
হটাৎ করেই ঘুমিয়ে গেলো আলগোছে চোখ বুজে।

রাত পড়িয়ে গাছের ডালে হাটি হাটি পায়ে,
লণ্ঠন-শিশু পড়লো ঢোলে ঋষি পাতার গায়ে।
ধ্যান ভাংতেই সাড়া হলো ঝিঝি পোকার ডাক,
ভালো লাগার আটখানাতে বাজলো নিশির ঢাক।

ঘুম কাতুরে জোনাক তখন জ্বলতে রাখে বাকি,
মেঘ সাগরে ডুব সাঁতারে চাঁদ কাঙালের ফাঁকি।
দীপ নেভা ঘোর পথের বাকে রূপনগরের ফেরী,
আরো একটা ভোর জমতে আরো কিছুবার দেরী।

হোতাম যদি মুক্ত কন্ঠে আকাশ নীলের সুর, চাঁদ-সুর্যের নাও ভাসিয়ে হারাতাম বহুদুর। মেঘবরণে দিক ভোলা রঙ পান্থপাখীর ডানায়, সাঝের চোখে রোদ ছড়...

মনবাঞ্ছার হেয়ালী

হোতাম যদি মুক্ত কন্ঠে আকাশ নীলের সুর,
চাঁদ-সুর্যের নাও ভাসিয়ে হারাতাম বহুদুর।
মেঘবরণে দিক ভোলা রঙ পান্থপাখীর ডানায়,
সাঝের চোখে রোদ ছড়াতাম তেপান্তরের মানায়।

পাহাড় বাদক হোতাম যদি যজ্ঞ নাশী ঢলে,
পাষাণ দু’চোখ ভিজিয়ে দিতাম ঝরে পড়ার ছলে।
বন্য সাজে অঙ্গ ভরিয়ে বিভোর বৃষ্টি-ছায়ে,
প্রপাত পায়েল পড়িয়ে দিতাম পাথর কঠিন পায়ে।

পারতাম যদি শান্ত নদীর বিলাপ মুছে দিতে,
সাগর কূলে ঢেউ ফিরাতাম প্রণয়ের সঙ্গীতে।
সৈকত চোখে ফিরতাম ঠিক ডিঙি ভাসা পথ ধরে,
দুরদ্বীপের স্বপ্ন নিয়ে ঝিনুক কুড়ানো ভোরে।

কুঞ্জ হয়ে হারাতাম যদি শুকনো পাতার চাদরে,
ফুলের ধুমে ভাঙতো যে ঘুম মাধবীলতার আদরে।
কলির সুখে রোজ পাপড়ি হয়ে বৃক্ষ মায়া কাঁপিয়ে,
মিশে যেতাম মধুর আঁধারে নিসর্গ রঙ ছাপিয়ে।

টুকরো সুখের আজলাতলে থাকবে না জল যেদিন, ফেলে আসা সেই মিষ্টি প্রণয় এ ঘর বুঝবে সেদিন। যদি স্মরণে থাকে, অনিমেষ শ্রাবণ জ্বলবে; ঝর...

অভিসারী একাকীত্ব










টুকরো সুখের আজলাতলে থাকবে না জল যেদিন,
ফেলে আসা সেই মিষ্টি প্রণয় এ ঘর বুঝবে সেদিন।
যদি স্মরণে থাকে,
অনিমেষ শ্রাবণ জ্বলবে;
ঝরে যাবে ধারা অঝরে,
অবুঝ সেই হেয়ালী আকাশ দৃষ্টি হারাবে মেঘের অধরে।

পড়ন্ত আধারে স্মৃতিগুলো মিলবে
অশ্রু হাওয়ার স্রোতে,
মনের ছায়া পরশ বুলাবে
অন্ধ মায়ার ক্ষতে।

এই মধুর লগ্ন,
তখন থাকবে মগ্ন;
বিস্মরণের ধ্যানে,
ভীড়বে এসে হাজারো স্রোত
নিরবতার বন্য টানে।
একাকীত্বের সুখ দেখাবে মুখ
এমনি এক দিনে,
অগণন প্রিয় দিন হবে রোজ বিলীন
ভালবাসার ঋণে।

-রচনাকালঃ ২০০৪

নিত্য হিসেবের ভৃত্য বনে আপন আপন খেলা। কি যতনে হায় সব ছেড়ে যায় একলা যাবার বেলা। ঘুড়ি-সুতোর বিত্ত-বিভব মরচে হাসির কড়ি। যাজক সেজে ব...

অবিসংবাদিত সমাপনী










নিত্য হিসেবের ভৃত্য বনে
আপন আপন খেলা।
কি যতনে হায় সব ছেড়ে যায়
একলা যাবার বেলা।

ঘুড়ি-সুতোর বিত্ত-বিভব
মরচে হাসির কড়ি।
যাজক সেজে বেজেই চলে
অন্তঃপুরের ঘড়ি।

চোখের পানির বদৌলতে
হারানোর ব্যাথা ভোলা।
খুচরো স্মৃতির তল্পি গুটিয়ে
নতুন বিপণী খোলা।

কবে ভিজবে মাছরাঙাটা
শিমুল ফুটবে কবে?
ঘুম কাটিয়ে একটু দেখার
কখনো কি সাধ হবে?

দুধ-সাদা রঙ ছাতের নিচে
রৌদ্র পাড়ের বিছানা,
আকাশ রঙা শান্তিকুটির
বদলাবে রোজ ঠিকানা।

বেলা হবার তাড়া দিয়ে
ঘুম না ভাঙাবে কেউ।
অথৈ রাতে শরীর জুরে
বয়ে যাবে নীল ঢেউ।

-রচনাকালঃ মে, ২০০০

এই জীবন ধারা, শত নয়ন কাঁড়া; ভিজে চলেছে মায়াবন। ঐ বিহঙ্গের ডানা, ভুলেছে সব মানা; ছোট্ট নাম তার হীরামন। মেঘকন্যার আকাশচারী, বাতাস ...

আষাঢ়ে মায়াবন










এই জীবন ধারা, শত নয়ন কাঁড়া;
ভিজে চলেছে মায়াবন।
ঐ বিহঙ্গের ডানা, ভুলেছে সব মানা;
ছোট্ট নাম তার হীরামন।

মেঘকন্যার আকাশচারী, বাতাস করেছে ভারী;
ভুলে গিয়ে সব পিছুটান।
সহিষ্ণু আজ কন্ঠ ছেড়ে, কাদাজলের গানটি ধরে;
করে যায় ভেজার আহবান।

মধু পূর্ণিমার কোলে, মাথা রেখে ভুলে;
স্বপ্ন দেখে নির্ঝরেরা।
মায়াবী রাত্রি, বিষাদের যাত্রি;
তন্দ্রা সেচে কল্পনারা।

কৃষ্ণচূড়ার চোখে, উষ্ণ আবীর মেখে;
হারিয়ে যায় অঝর ধারা।
সেই খোঁজের আলাপনে, রঙধনু মায়াবনে;
তাড়া করে মেঘের পাড়া।


-রচনাকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬

প্রতিটি দিবস প্রতিটি জীবন; অধীর মহাকালের প্রতিটি বাজী, সূচনালগ্নে একটি প্রত্যূষ। তখনো মুখ ধোয়নি এঁটো ধরণী, রাতের ঝরে পড়া শুকনো প...

ঊষার ঐশ্বর্য










প্রতিটি দিবস প্রতিটি জীবন;
অধীর মহাকালের প্রতিটি বাজী,
সূচনালগ্নে একটি প্রত্যূষ।
তখনো মুখ ধোয়নি এঁটো ধরণী,
রাতের ঝরে পড়া শুকনো পাতা
রাজপথ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য
বিস্তার করতে চায়, তবে
রেষারেষি বেধে যায় চির নবীন বাতাসের সাথে।
জীর্ণ বসনে নারী-পুরুষ নেমে পড়ে
ধুয়ে মুছে সবকিছু নতুন করতে।
ফুল টোকাতে টোকাতে কাঁধে পরিত্যক্ত ঝোলা নিয়ে
নশ্বর বাগিচায় প্রবেশ করে কিশোর-কিশোরীর দল।

জীবিকার নিশান উড়ে
নিভু নিভু প্রায় হলুদ আলোটার নিচে।
অবুঝ প্রাণীগুলো জাগে আড়মোড়া ভেঙে
তাদের রোজকার খাবার খুঁজতে।
মুক্ত নীলাম্বরের সখীরা তা দেখে অবলীলায়
উপহাসে ফেটে পড়ে, যেখানে
সেই সুবহে-সাদেকের অনেক আগেই তারা
নেমে পড়েছে তাদের ছোট্ট বাসাটি ছেড়ে!
সবুজ মহীরূহ ঝাড়ু দিয়ে যখন
প্রকৃতি পরিষ্কার করে দিয়ে যায়,
অর্ধ কুসুম সূর্যটার সম্মুখে তখন
সারা প্রভাতের স্পন্দন ভাসে।

হাতে ফুলের মালা নিয়ে
আরেক ফুল ফোটে এমনি ভোরের মেলায়,
ঠিক তখনি শহরের সবচেয়ে উচু দালানটার
সবচেয়ে উচু ঘরটায়;
নিদ্রিত ফুল ফুটে থাকে
ফুলদানীতে সুবাস নিয়ে।
ঐ দালানগুলোয় কোন সাড়া নেই,
জেগেছে কেবল জীবনের একটি ভাগ,
দিবালোকের দ্বিতীয় প্রহর
এদের তন্দ্রা ভাঙার দিন।
ধীরে আসে আগুন দুপুর,
মাত্রা মেলায় স্নিগ্ধ বিকেল;
নীলিমায় শেষ হয় মেলা;
সময় আসে ঘরে ফেরার।
চেনা সেই তারা ভরা মৌনতা
জমজমাট জ্যোৎস্নার হাটে
মুখরিত চাঁদের রাত।

অন্তরে ভগ্ন কোলাহল;
ঝিমিয়ে পড়ে ব্যস্ততা,
আবারো সেই প্রতীক্ষা ঐশ্বর্যমন্ডিত ঊষার।
সেই আলোকিত আকাশ,
মুক্ত বাতাসে উড়ে চলা সেই ধুলোর মেঘ,
ঝাড়ু হাতে ছিন্ন বসনে সেই বৃদ্ধা,
শুষ্ক সবুজ গালিচায় ফুল তোলা সেই
কিশোর-কিশোরী।
ফুটপাতের ছোট্ট রাজপ্রাসাদে
ফুটফুটে নবজাতকের বিক্ষিপ্ত কান্নার মাঝে
খুঁজে পাওয়া প্রতিদিন একটি নতুন ভোর।



-রচনাকালঃ ২৪ জুন, ২০০৮

অপলক বালুকাবেলায় এক সাগর তৃষ্ণায় অনুরণনে মুখর মেঘাচলের অন্তরায় শ্রান্ত গভীর দৃষ্টি। বিমোহিত অনীলের অনন্য নৈপূণ্যে জীবন বিলাসের স...

বৃষ্টি নন্দন










অপলক বালুকাবেলায়
এক সাগর তৃষ্ণায় অনুরণনে মুখর
মেঘাচলের অন্তরায় শ্রান্ত গভীর দৃষ্টি।
বিমোহিত অনীলের অনন্য নৈপূণ্যে
জীবন বিলাসের সুরেলা উচ্ছ্বাসে চির নন্দিত বৃষ্টি।
শাখীর ইন্দ্রজালে সাথী প্রিয় চঞ্চলা ধূসর নভঃ ভুবনে
সূর্যালোক বিহনে বাদলে দেয় স্বীকৃতি।
কাঠিন্যের উৎপীড়নে সহিষ্ণুতার নিষ্পেষনে
অন্ধ জগতের ঈপ্সা সেঁচে শ্যাম বন্ধন ভেঙে
মৃত্তিকা পায় নিষ্কৃতি। 

ভালবাসার ভুলে ক্ষীণ শেষ পারাবার তটে 
টিপ টিপ ঝিমুনী, তবুও বুক পেতে
শঙ্খ আগলে রাখে।
কুয়াশা কুলের ভ্রান্তি জড়ায় বিহঙ্গের ডানায়
আড়ালে সেদিকে তাকিয়ে ঔদাসিন্য প্লাবিত নয়নে
বৃষ্টি ভেবে অশ্রু মাখে।
ভবঘুরে ঐ মেঘকে বাঁধনে জড়াতে নয়,
ধরাবাধা কোন নিয়মে বৃষ্টি পিয়াসী নয়;
শুধু আজন্ম নিবেদন-
হৃদয়ের মৃদু সাড়াতে ষড়কাল জুড়ে হয়
যেন স্বাধীন মিলন।
স্মৃতির মিনতিতে তবে মুখোরিত রবে
মেঘ নিকেতন।

-রচনাকালঃ ১১ জুন, ২০০৮

তখনো রৌদ্র দৃষ্টি কাঁড়েনি মৌন নদীর বাঁকে, শূন্যতা জুড়ে ইচ্ছে জড়ালো দ্বীপ্ত মেঘের ফাঁকে। ভেঙে গেলো ছাতের চূড়ায় কাকের উন্মত্ত সভা,...

বৃষ্টি নিরন্তর










তখনো রৌদ্র দৃষ্টি কাঁড়েনি মৌন নদীর বাঁকে,
শূন্যতা জুড়ে ইচ্ছে জড়ালো দ্বীপ্ত মেঘের ফাঁকে।
ভেঙে গেলো ছাতের চূড়ায় কাকের উন্মত্ত সভা,
গগণকোণে ঊঁকি দিলো কিশোরী ক্ষণপ্রভা।
মৃত্তিকার নির্জলা স্বাধীনতায় কিশলয়ে বাঁজে জয়ধ্বনি,
পথভ্রষ্ট মাতাল সমীরণ ভরে আর্দ্র সুবাসের পত্তনি।
এক সময় ক্লান্ত অধর ছুঁয়ে যায় এক ফোটা অধীর সলিল,
বিস্বাদ দুপুরে নীলের ছায়া মাড়ায় উদ্ধত ধূসর মিছিল।
বিকেল হৃদয় ভিজে চলে নিবিড় ভালবাসায়,
গোধূলী বৃষ্টি একাকার সন্ধ্যার নিঃসীম মায়ায়।
নিশিতে পাওয়া নিয়ন বাতির নিশ্চুপ আঁকা আল্পনা,
চোখের তারায় নক্ষত্র পেয়ে জীবন্ত হয় কল্পনা।
জ্যোৎস্নার মৃদু শিহরণ ভাষাতে; পড়ন্ত রাত্রির সব হারাতে,
বুক ভরে তার যতটুকু প্রেম; শুধু বৃষ্টিকে কাছে চাওয়াতে।
কিন্তু মুখোমুখি নিঃশব্দে জ্যোৎস্না-বৃষ্টির বিচরণ,
নিরব কথোপোকথোনে শুধু প্রণয়ের আলোড়ন।
কৃষ্ণপক্ষে এক সময় টলমল চোখে ফিরে যায় চন্দ্র নির্ঝর,
আর সে পথের দিকে তাকিয়ে ঝরে যেতে থাকে বৃষ্টি নিরন্তর।



-রচনাকালঃ ২৯ মে, ২০০৮

নিঃস্বঙ্গতা ঢেকেছে ক্লান্তির চাদর, কষ্টের বাঁধ ভেঙেছে অশ্রু সাগর। সাক্ষী ঐ রাতের তারা আর অমাবস্যার ঘোর, বুঝেছে শুধু নিশাচরদের ঘ...

হৃদয়ঙ্গম










নিঃস্বঙ্গতা ঢেকেছে ক্লান্তির চাদর,
কষ্টের বাঁধ ভেঙেছে অশ্রু সাগর।
সাক্ষী ঐ রাতের তারা আর
অমাবস্যার ঘোর,
বুঝেছে শুধু নিশাচরদের
ঘুমন্ত শহর.........................।

এ জীবন তবু থাকে না থেমে,
হারিয়ে যায় সে সময়ের ফ্রেমে;
পিছুটান ছুড়ে ফেলে দিয়ে দুরে;
ছুটে চলে তরী ছন্দময় সুরে।
হৃদয়ের চাওয়ায় সর্বনাশী হয়ে,
চলে যায় সব কিছু ভেঙে দিয়ে;
অতৃপ্ত প্রহর……………….।

প্রণয়ের ভীড়ে ব্যথিত মুখ,
ফেরারী হয়ে খুঁজে ফেরে সুখ;
পথহারা হয়ে বিস্মৃতির কোলে,
আঁখি বাতায়নে কল্পনা দোলে।
ঊষার পূর্বাশায় শিশিরে ভেজায়;
ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্ন দেখায়;
পড়ন্ত নির্ঝর………………।



-রচনাকালঃ নভেম্বর, ২০০৫

অমঙ্গলের রৌদ্রস্নাত বিবর্ণ সামীয়ানার নীচে নিরন্তর দুঃস্বপ্নের ফাঁদ, অমাবস্যায় ডুবে যাওয়া জীবন কুঠুরীর ফাঁকে রিক্ত সময়ের তীক্...

দুঃস্বপ্নের বন্দিনী










অমঙ্গলের রৌদ্রস্নাত বিবর্ণ সামীয়ানার নীচে
নিরন্তর দুঃস্বপ্নের ফাঁদ,
অমাবস্যায় ডুবে যাওয়া জীবন কুঠুরীর ফাঁকে
রিক্ত সময়ের তীক্ত স্বাদ।
ঈর্ষান্বিত মনের যত বিক্ষিপ্ত আহাজারি
জোছনা বৃষ্টি দেখে,
তবুও হারায় দু'চোখ ভরা অশ্রু লুকিয়ে
খুশীর প্রলেপ মেখে।
ধীরে ধীরে জড়ো হয় শত বেড়ে ওঠা 
অবকাশ
সুলভ ছন্দ পতনে, 
কৃষ্ণকলির পরিস্ফুটন চন্দ্রদ্বীপের সৈকতে
বিরহের স্বপ্ন পূরণে।
নীলিমা জুড়ে নিরুপমার ম্রিয়মান আলোয়
ধাঁধাঁনো অগণন ভুবন,
তবুও বন্দিনীর অকুল পাথার মনোবাসনা
কোনদিন হয়না পূরণ।


-রচনাকালঃ ১২ মে, ২০০৮

অদ্ভূত আধারে আত্মপ্রকাশের একটুখানি উন্মাদনা, মরীচিকার সতত উপহাসে ধৈর্য্যের ব্যর্থ বন্দনা। বিহঙ্গদের মোহনায় এক গাঙচিলের স্তব্ধতা,...

জীবনের ক্যানভাস










অদ্ভূত আধারে আত্মপ্রকাশের একটুখানি উন্মাদনা,
মরীচিকার সতত উপহাসে ধৈর্য্যের ব্যর্থ বন্দনা।
বিহঙ্গদের মোহনায় এক গাঙচিলের স্তব্ধতা,
অবলীলায় ছুটে চলা নদীর নিশ্চুপ নিবিড়তা।
সেই নিবিড়ে ঘরবোনে লোনা জলের ভালবাসা,
অতঃপর বৃষ্টিতে খুঁজে পায় মেঘ স্বপ্নের ভাষা।
রংধনুর সিড়িতে আকাশ ছোঁয় মনের সীমানা,
জানলার কাঁচে দৃষ্টি পথে কাঁচপোকাদের ব্যঞ্জনা।
দিগন্ত-প্রিয় তিথিদের পানে হাসিমুখে বিদায়ী সম্ভাষণ,
গোধুলি ডেকে যাওয়া শালুকের ঝিলে ফের নিমন্ত্রণ।
বালুকাবেলায় চাঁদের মসলিনে মিহি জোছনার কারসাজি,
যেখানে সুতোর পরতে জীবন ধরে জীবনের জন্য বাজি।
গভীর রাতের ঘুম পাড়ানী গানে বাড়ে শহরতলীর ক্লান্তি,
সুখ-দুখ কেনাবেচার হাটে ছড়িয়ে দেয় এক পসলা শান্তি।
নিঝুম দীঘির পাড় ঘেষে হারিয়ে যায় নৌকার ছায়া,
ঘুমন্ত শান্ত্রী শান্ত জলের বুকে খুঁজে পায় তিমির মায়া।
তারা খচিত করোমর্দনে সাগর-সিক্ত করে প্রণয়ের হাত,
বাতিঘর খুঁজে চলা নাবিকের চোখে জেগে থাকে রাত।



-রচনাকালঃ নভেম্বর, ২০০৫

অপেক্ষার সোপানে দাড়িয়ে দিনান্তের সুরে অপেক্ষমান, নীলের মাঝে ধূসর আল্পনা কষ্টের মাঝে জীবনের গান। সীমান্তের দিকে করুণ চাহনী উচ্ছ...

প্রতীক্ষার অথৈ সাগর










অপেক্ষার সোপানে দাড়িয়ে দিনান্তের সুরে অপেক্ষমান,
নীলের মাঝে ধূসর আল্পনা কষ্টের মাঝে জীবনের গান।
সীমান্তের দিকে করুণ চাহনী উচ্ছ্বসিত আদলের মুগ্ধতা,
প্রতীক্ষার পর মুক্ত নিবিড়ে কথোপোকথোনের জড়তা।

বসন্তের সাড়া নেই আর ভেঙে পড়ে আছে দক্ষিণের দুয়ার,
ঘরবাধা সৈকতে ফিরে ফিরে আসে সীমাবদ্ধতার জোয়ার।
অঘ্রাণের সমীরের আগমণে বিগত সেই কার্তিকের প্রহর,
তবু প্রথম ফাগুনের সুপ্ততা পৌষের মনে এখনো অমর।

স্বনীতিতে এখনো পরে শীতের অশীতিপর বৃক্ষের অলস কিশলয়,
মাঝে মাঝে বিজনে প্রাণ দিয়ে যায় চঞ্চল বাতাসের অদৃশ্য হৃদয়।
এখন জ্বলে জ্বলে অম্লান রোদেলা চায় না মেঘে ঢাকা পড়তে,
আপনার শেষ দ্বীপ্তিটুকুও আগ্রহভরে চায় ছড়িয়ে যেতে।

সেই সাথে মহাকালের নীতিতে সময় ভুলে ছিটেফোটা পিছুটান,
চির আবেগের নদীতে বাধ দিয়ে ধ্বংসের অবগাহনে আত্মদান।
অপেক্ষা শিরোনামের ডায়েরীটা অবহেলায় খুলে পড়ে থাকে,
জীবন পাতাগুলো একের পর এক উল্টে যায় সময়ের বাঁকে।


-রচনাকালঃ নভেম্বর, ২০০৫

কাক ডাকা ভোরে পাতার মর্মরে ফেলে আসা পথ চলা, শুকনো ফুলের শূন্যতার সাথে মিলিয়ে কথা বলা।  ঘর ছাড়া ঐ সিড়ি ভাঙা দিনের খামখেয়ালী ...

স্মৃতিতে দৃষ্টিভ্রম










কাক ডাকা ভোরে পাতার মর্মরে
ফেলে আসা পথ চলা,
শুকনো ফুলের শূন্যতার সাথে
মিলিয়ে কথা বলা। 



ঘর ছাড়া ঐ সিড়ি ভাঙা দিনের
খামখেয়ালী যত,
ফিরে ফিরে এসে ঢেকে দিয়ে যায়
অন্তঃপুরের ক্ষত।

পড়ন্ত বিকেলের বন্ধ বইয়ের
শেষ গল্পের আপোসে,
শ্রান্ত স্মৃতিরা আড্ডায় বসে
দিবাস্বপ্নের পরশে।

সাঁঝের পাখীরা ফেরী করে ফিরে
দিনান্তের বাস্তবতা,
পুরোনো গানের প্রিয় সুর ছড়ায়
গোধূলির কথোকতা।

অর্বাচীন রাতে ব্যস্ততার ফাঁকিতে
অভিরূপ আন্তাকশারী,
তন্দ্রাতুর হাওয়া উঠোন জুড়ে খুঁজে
জোনাকীদের বাড়াবাড়ি।

চাঁদ পোড়ানো জানলায় ঊঁকি মেরে যায়
আনমনে কারো ছায়া,
তারি খোঁজে স্মরণের ঘাট ছেড়ে যায়
শেষ পারাপারের খেয়া।

-রচনাকালঃ এপ্রিল, ২০০৬

সেদিন ছিলো নীলের শ্রাবণ, অবুঝ কিছু মেঘলা বারণ। পিচঢালা ফুটপাতে প্রিয় স্মৃতির রঙচটা হাসি, কি যে মায়ায় বাঁজিয়ে ছিলো বিহানগড়ের বাঁশ...

ফিরে দেখা










সেদিন ছিলো নীলের শ্রাবণ,
অবুঝ কিছু মেঘলা বারণ।
পিচঢালা ফুটপাতে প্রিয় স্মৃতির রঙচটা হাসি,
কি যে মায়ায় বাঁজিয়ে ছিলো বিহানগড়ের বাঁশি!

আধবোজা চোখে ফেলে আসা পথে বিজন সুর খুঁজে,
কি যেন কি বলেছিলো গোধুলির কোলে মুখ গুঁজে।
কুঞ্জ ভরে শুভ্র দোপাটির পুঞ্জ হেয়ালীপনা,
সাজিয়েছিলো মুক্ত নিসর্গের সিক্ত সামিয়ানা।
শতদলবন্দি অনর্গলে বিহবল জোছনা,
বিনিদ্র রাত ভুলেছিলো জোনাকিদের গঞ্জনা।


সেদিনো শেষ তরীটির খোঁজে ঘাটঘরের হাক,
দীপ জ্বেলে পাঠিয়েছিলো ছলাৎ ছলাৎ ডাক।
শহরের শেষ দেয়ালের গায়ে ঝাপসা ছিলো নীল,
বিসর্জনে পেয়েছিলো কোথাও সুখ-দুখের মিল।


-রচনাকালঃ ২০০৪

নিশিতে পাওয়া নিয়নের পথ ধরে বিলাপ করে কেন লুটিয়ে পড়ে, অন্ধ অভিসারীর মনোবেদনা। তাই নিয়েই বাড়ে ঝিঁ ঝিঁ পোকাদের নিয়ত ফিসফিস আলোচ...

অন্তর্লীন অনুকথা










নিশিতে পাওয়া নিয়নের পথ ধরে
বিলাপ করে কেন লুটিয়ে পড়ে,
অন্ধ অভিসারীর মনোবেদনা।
তাই নিয়েই বাড়ে ঝিঁ ঝিঁ পোকাদের
নিয়ত ফিসফিস আলোচনা।

হারানো পূর্ণিমার ভাঙা ঊর্মি
অজানায় যেতে যেতে এঁকে যায়
পাখির ডানায় বিকেলের সমাপ্তি।
রাতের আকাশে সাদা মেঘরঙ ছড়াতে
নেই যেন তার এতটুকু বিরতি।

একরোখা পাহাড় ঝর্ণা হারিয়ে
নদীর কণ্ঠে দুঃখ ভরিয়ে,
সব হারালো এই অবেলায়।
ওদিকে ঢেউ জাগানিয়া সাগরের চোখে
রোদেলা কাব্যে দিন ফুরায়।

চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ্বের মাঝে
বিরহের প্রহরে তীব্র একাকীত্ব,
উথলে উঠে অম্লান বেদনায়।
দূর্বাঘাসের বুক জুড়ে সংশয় ভরে উঠে
শিশির প্রাপ্তির ভীষণ ভাবনায়।

আকাশ-সমুদ্রের মিশে যাওয়া রেখা
নীলিমায় খুঁজতে যেয়ে শুনতে পাওয়া,
এই চোখের তারায় ভালবাসার তুড়ি।
এতদিন ধরে বেজেছে তবু না শোনা সেই
রিনিঝিনি শব্দের মেঘকন্যার চুড়ি।

অনুরাগের এপারের দোর-গোড়ায়
ভাঙা লন্ঠন নিয়ে দাড়িয়ে,
জীবন বাজিকরেরা।
রঙের অন্তঃপুরে বিরহের বিভবে
আরো রঙ চড়াতে উন্মাদ,
রঙের যাদুকরেরা।

ফ্যাকাসে হয়ে আসা বসন্ত
এখনো বুঝে ওঠে নি
কৃষ্ণচূড়ার গভীর দুর্বলতা।
ভালবাসার জীর্ণ কুটিরে ফুপিয়ে কাঁদে
রঙ্গমঞ্চের রিক্ত স্বাধীনতা।

-রচনাকালঃ ডিসেম্বর, ২০০৫

ঘুরে ঘুরে আবার ফিরে সেই থমকে দাড়ানো ছোট্ট ঘরটার পুরোনো নিঃস্বঙ্গতায়। মনবাক্যে ষড়কালকে বুঝানো, শ্রাবণের সুখ যেন শুধু বিবর্ণ বেদনা...

পড়ন্ত সলিলের হতাশা










ঘুরে ঘুরে আবার ফিরে
সেই থমকে দাড়ানো
ছোট্ট ঘরটার পুরোনো নিঃস্বঙ্গতায়।
মনবাক্যে ষড়কালকে বুঝানো,
শ্রাবণের সুখ যেন শুধু
বিবর্ণ বেদনায়।

আজ বাইরে জীবনের
রিমঝিম কোলাহল;
অবিরাম ধারায়।
এ্যকে এ্যকে দুঃখ জমে;
চোখের কোণে বান ভাসে;
পাষাণের বুক ভরায়।

খোঁজ নেই আজ
ভালবাসার উষ্ণ প্রভাতের
রক্তিম সবিতার।
এসেছে বুঝি পালা,
আকাশের শূন্য বুক থেকে
বিদায় নেবার।

সমাধির ঘন্টা শুনে;
নিশ্চিত জয় হারিয়ে
করুণ পরাজয়ের।
অরুণ যে গেলো ফেলে
সেই না ফেরার কালে,
তাই হাহাকার আষাঢ়ের।

সব কিছু হারিয়ে
যতন করে ভাবনা গড়া
অলীক সর্বসুখের।
শুধু কি দৈন্য দশায়
পীড়িতদেরই অধিকার
অমোঘ সর্বদুখের?

দিনান্তের বিচিত্রতা,
তার সাথে হাজারো
অশান্ত মননের।
অকুল ভাবনার দরিয়ায়
মহাকাল ইন্ধন যোগায়
চির ভাঙনের।

পাতাশূন্য ডাল দুঃখ ঘুচিয়ে
মুক্ত নীলের গানের দলের
কিচিরমিচির সুর মাখে।
শান্ত নদী; পাষাণ পাহাড়
মেঘ বরণে বৃষ্টি মায়ায়
আকাশপাণে দৃষ্টি রাখে।

অশরীরীদের ঐকতানে
দীঘল অমানিশায় বাড়ে
হৃদয়ের আর্তনাদ!
সাথে টিপটিপ শোরগোলের
বুনো ছন্দে ভেসে যায়
ঝিঁঝিঁ ডাকা অবসাদ!

আজ কংক্রিটের ভাষায়
শত শত বিশাল দানো
বিদ্রূপ করে নীরবে।
পড়ন্ত সলিল মন
শত বিন্দুতে মিলায়
জীবনের কলরবে।

সুখের জয়ধ্বনি আজও
রাখেনি তার সেই
শপথের কথা।
দুঃখটা শেষ হলে
তবেই ফিরবে জীবনে
ছিলো মনে গাঁথা।

তবে এইটুকু অভাব
বোঝার স্বভাবে
কতটুকুই বা হয় শূন্যতা!
সবকিছু পেয়েও যেন
যায় না হৃদয়ের
গভীর রিক্ততা।

এই তো সূর্যদিনের
আলোর সামীয়ানা মেঘলা দিনে
হলো হাতছাড়া।
গরীব রাজা হয়ে
বিজন দ্বীপে ঘুরে ফিরছে
এক ছন্নছাড়া।

তবুও সেখানেই হন্যে হয়ে
জীবন চায় জীবনের স্বাদ,
এমনি অভিলাষ।
সৈকত আর বন উজাড় করে
দু’চোখ ভরে যতনে গড়ে
প্রিয় স্বপ্নপ্রবাস।

এদিকে গোধূলির নিরবতা
ভোরের স্তব্ধতা আর
নীল আকাশের ভূবন।
সবি পেরিয়ে যায় নির্লিপ্তে,
ভ্রমণের সঙ্গীত ঘিরে
নির্বিকার জীবন।

ঐ নির্ঘুম চন্দ্রিমা
উপমার বিনিময়ে কেবলি
দিয়ে গেছে কালিমা।
আর তারার আলোয় হাতড়িয়ে পাওয়া
বালুকাবেলার বৈকুন্ঠ জুড়ে শুধু
অনর্থ করেছে জমা।

জানলার কার্নিসে এখন
নীড় বাধা নৃত্যের
বিচ্ছিন্ন স্পন্দন।
তন্দ্রাতুর রাত দুপুরে
শঙ্খকল্পের দিনযাপনের
অতৃপ্ত মন্দন।

ব্যর্থ আশায় আবারো শুরু
অসহায় এক পশলা
বৃষ্টির আরাধ্য।
শহরতলীর গদ্য ভিজিয়ে
দেয়ালের বুকে সাজিয়ে দেয়
জলের শ্রাদ্ধ।

রয়ে যায় অবশেষ,
বিষণ্নতার মুহুর্তটুকু
চেনা পথ মাড়ায়।
আসন্ন শ্রাবণ সেই
বেদনার সুখে ভিজতে
নতুন করে ভাবায়।



-রচনাকালঃ মে, ২০০৫

চিরকাল দেখেছি কালো মেঘে ঢাকা আকাশ অতঃপর দিগন্ত কাপিয়ে ধাবমান অদম্য ঝড়। তাই হঠাৎ কুসুম রোদ, নীলিমা রাঙা ছিটেফোটা গোধূলি আর রাত ...

নিয়তির বিদ্রূপ










চিরকাল দেখেছি কালো মেঘে ঢাকা আকাশ
অতঃপর দিগন্ত কাপিয়ে ধাবমান অদম্য ঝড়।
তাই হঠাৎ কুসুম রোদ, নীলিমা রাঙা ছিটেফোটা গোধূলি আর
রাত জাগা চন্দ্রিমার লেশ দেখেও বুঝিনি,
আকাশ কত সুন্দর!

নিয়ত দেখেছি উন্মত্ত সাগরের ঢেউয়ের মাঝে
ওঁৎ পেতে থাকা মৃত্যু জীবন-বিনাসী।
তাই সৈকতের এক দুপুর সঙ্গ, গাঙচিলের সাথে খুনসুটি আর
পায়ে-জলে নিশুতি রাতের ছোঁয়াছুঁয়ি খেলাতেও বুঝিনি,
স্বাধীনতা কত অভিলাষী!

প্রায়ই দেখেছি চাঁদটাকে ডুবে যেতে
নির্ঘুম রাত্রির অন্ধ অমানিশায়।
তাই ঝিঝিদের ক্ষণিক আড্ডায় ডুবে, তারাখসা দেখে স্বপ্ন বুনে আর
জোনাকীদের এক পশলা আরাধনায় মেতেও বুঝিনি,
কত যে মায়া এই স্নিগ্ধ নিরবতায়!

শেষব্দি প্রশ্নের ঊত্তর না খুঁজে বারবার হারিয়েছি
তার কাঠিন্যের অকারণ ভাবনায় দিক-দিগন্তরে।
তাই প্রিয় মুখগুলোকে নিয়ে ছোট ছোট আয়োজন, পুনর্মিলনের সুখসাজ আর
ছোট ছোট হাসিগুলোকে দু-গন্ড ভরে পেয়েও বুঝিনি,
কত যে তৃপ্তি জীবনকে নতুন করে আবিষ্কারে!



রচনাকালঃ ১৩-১৪ আগষ্ট, ২০০৫